পরিচ্ছেদ: নামাজের মধ্যে কোনো আপতিত বিপদের কারণে (যেমন হিংস্র প্রাণী, বিষাক্ত সাপ ইত্যাদি এসে পড়লে) বা কোনো কিছু দেখলে অথবা থুথু দেখলে সেদিক তাকানো যাবে কিনা? এবং কিবলার দিকে থুথু ফেলা যাবে কিনা? হযরত সাহল বিন সা’দ বলেন, আবু বকর (রা.) নামাজের মধ্যে দৃষ্টিপাত করে নবী করীম (সা.) -কে দেখেছেন।
অনুবাদ: হযরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক সময় আল্লাহর রাসূল (সা.) মসজিদের কিবলার দিকে (নিজের সামনে) থুথু বা কফ দেখতে পেলেন। সে সময় তিনি লোকজনের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি থুথু বা কফ পরিষ্কার করলেন। তারপর নামাজ সমাধা করে বললেন, তোমরা কেউ যখন নামাজ আদায় করবে, তখন মনে করবে যে আল্লাহ তার সামনেই আছেন। অতএব, কেউ যেন নামাজে সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ না করে।
প্রশ্ন: হাদীসে আছে نخامة আর শিরোনামে আছে بصاقا তাহলে শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হলো কিভাবে?
উত্তর: ইমাম বুখারী এখানে মূল হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যে হাদীসটি নাফে’ -ইবনে ওমর সূত্রে باب حك البزاق باليد من المسجد -এর অধীনে উলেখ করেছেন। সেখানে হাদীসের শব্দ হলো رأَي بصاقا في جدار القبلة فحكه সুতরাং তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। অথবা বলা যায় যে, بصاق ও نخامة উভয়টির হুকুম একই।
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন মুসলমানরা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ আল্লাহর রাসূল (সা.) তাদের সামনে এলেন। তিনি আয়িশার ঘরের পর্দা উঠিয়ে তাদের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। এ সময় তারা কাতারবন্দী হয়ে নামাজ আদায় করতে ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি (রাসূল) আনন্দিত হয়ে মৃদু হাসলেন। এ সময় আবু বকর মনে করলেন, নবী (সা.) হয়তো বাইরে আসতে চাচ্ছেন। তাই তিনি পিছু সরে কাতারে শামিল হয়ে ইমামতির জন্য রাসূল (সা.)-কে জায়গা ছেড়ে দিতে উদ্যত হলেন এবং মুসলমানরাও নামাজ ছেড়ে দিতে উদ্যত হলো। তিনি তাদেরকে ইশারা করে বললেন, নামাজ সমাধা করে নাও। আর এ সময় তিনি পর্দাও নামিয়ে দিলেন। এ দিনটির শেষভাগেই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর এ বাবটি হলো استثناء বা ব্যতিক্রমসদৃশ। উদ্দেশ্য হলো التفات -এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। তন্মধ্যে কোনো প্রকার নামাজ ভঙ্গকারী, আবার কোনো প্রকার মাকরূহ। যেমনটি উপরে বর্ণিত হয়েছে।
এখন এ বাবে কতেক দৃষ্টিপাতকে ব্যতিক্রম করা উদ্দেশ্য যে, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে দৃষ্টিপাত করা জায়েয আছে।
প্রশ্ন: প্রয়োজনবশতঃ যেহেতু দৃষ্টিপাত করা জায়েয, তাহলে ইমাম বুখারী শিরোনামে هل শব্দ কেন বৃদ্ধি করেছেন?
উত্তর:এর কয়েকটি উত্তর রয়েছে। যথা:
১. هل কখনও قد অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নিঃসন্দেহে যখন প্রয়োজন হবে তখন জায়েয। যেমন নবী করীম (সা.) ও আবু বকর (রা.) হতে দৃষ্টিপাত প্রমাণ আছে।
ইমাম বুখারী (র.) হযরত সাহল (রা.) সম্পর্কে রেওয়ায়েত উলেখ করেছেন, যাতে হযরত আবু বকর (রা.)-এর দৃষ্টিপাতের কথা রয়েছে। এতে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, এ দৃষ্টিপাত ছিল কিবলার দিকে। যা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এ উত্তর প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, নবী করীম (সা.) তো হুজরা হতে বের হচ্ছিলেন, আর হুজরা ছিল বাম দিকে। সুতরাং সাহাবায়ে কেরাম বামদিকে দৃষ্টিপাত করেছেন।
২. ইবনে ওমর (রা.) -এর হাদীসে আছে যে, নবী করীম (সা.) দেয়ালে কফ দেখতে পেয়েছেন, এতে সম্ভাবনা রয়েছে যে, তা ডান বা বাম দিকে দেখেছেন। এ সমূহ সম্ভাবনার কারণে তিনি এখানে هل শব্দ বৃদ্ধি করেছেন।
৩. হযরত আনাস বিন মালিক (রা.)-এর হাদীসে আছে যে, (মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার দিন) যেদিন তিনি হযরত আয়েশার হুজরার পর্দা উঠিয়েছিলেন, এবং আবু বকর (রা.) ফজরের নামাজ পড়াচ্ছিলেন, তখনও সাহাবায়ে কেরাম নবী করীম (সা.) -কে দেখেছিলেন। বুঝা গেল যে, দৃষ্টিপাত করা জায়েয। কিন্তু সম্ভাবনা রয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরাম চোখের কোণ বা আড়চোখে দেখেছেন। তাই ইমাম বুখারী هل শব্দ বৃদ্ধি করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই